
https://www.facebook.com/al.hera.bd2018/videos/2767164033637257/?app=fbl
প্রতিবেশী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক
অস্থিরতা, জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ (AA), ‘আরসা’ (ARSA) ও ‘আরএসও’ (RSO)-এর মধ্যে চলমান বহুমাত্রিক ও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের জাঁতাকলে পড়ে ওপার থেকে দলে দলে ভিনদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতওয়া অঞ্চল থেকে খুমি সম্প্রদায়ের একটি বড় দল অবৈধভাবে বান্দরবানের থানচি সীমান্ত অতিক্রম করে। তারা অত্যন্ত গোপনে দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হৈকো খুমি পাড়া’র বিভিন্ন বেসামরিক বসতিতে আশ্রয় গ্রহণ করে।
অস্থিরতা, জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ (AA), ‘আরসা’ (ARSA) ও ‘আরএসও’ (RSO)-এর মধ্যে চলমান বহুমাত্রিক ও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের জাঁতাকলে পড়ে ওপার থেকে দলে দলে ভিনদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতওয়া অঞ্চল থেকে খুমি সম্প্রদায়ের একটি বড় দল অবৈধভাবে বান্দরবানের থানচি সীমান্ত অতিক্রম করে। তারা অত্যন্ত গোপনে দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হৈকো খুমি পাড়া’র বিভিন্ন বেসামরিক বসতিতে আশ্রয় গ্রহণ করে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিয়ানমার থেকে আগত খুমি জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নিজেদের কুকিভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে সহযোগিতা করে আসছিল। সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ, আশ্রয় লাভ এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের গোপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া জোনের অধীন ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ছোট মধু বিওপির হাবিলদার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সেখানে এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে নারী, পুরুষ এবং ১১ জন শিশুসহ মোট ৪৭ জন মিয়ানমারের নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করা হয়। বিজিবির এই সময়োচিত ও অতন্দ্র প্রহরা যদি সফল না হতো, তবে এই ৪৭ জন অনুপ্রবেশকারী রুমা, থানচি বা আলীকদমের গহীন অরণ্যে তাদের সমগোত্রীয়দের মাঝে চিরতরে হারিয়ে যেত। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু মহলের যোগসাজশে তারা এ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিকত্বের ছাড়পত্র পেয়ে যেত, যা পাহাড়ের সার্বিক সুরক্ষাকে চরম হুমকির মুখে ফেলত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ৪৭ জনের সফল অনুপ্রবেশের পথ ধরে মিয়ানমারের ওপার থেকে আরও বহু উপজাতি পরিবার থানচি সীমান্তে ঢোকার জন্য প্রহর গুনছে।
বাংলাদেশ ইতিপূর্বেই মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে এক বিশাল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। মানবিকতার খাতিরে দেওয়া সেই আশ্রয় আজ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক স্থায়ী ক্ষত। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে উগ্র বিজেপি সরকার মুসলিমদের বাংলাদেশের সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যে আবার মায়ানমারের জাতিগত সহিংসতা। বর্তমান থানচি সীমান্তে আটক হওয়া ৪৭ জন মিয়ানমারের নাগরিকের ক্ষেত্রে বিজিবি জানিয়েছে যে, তাদের পরিচয় ও পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালা অনুসরণপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, একবার কোনো বিদেশি নাগরিক পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়লে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রচ্ছন্ন চাপ এবং মিয়ানমার সরকারের চিরাচরিত উদাসীনতার কারণে তাদের প্রত্যাবাসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে, রোহিঙ্গারা যেভাবে আজ বাংলাদেশের জন্য এক স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক একইভাবে এই উপজাতীয় অনুপ্রবেশকারীরাও পাহাড়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন এক জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন উপজাতি, যেমন: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমি, চাক, লুসাই, পাংখোয়া, রাখাইন, তংচঙ্গ্যা, মুরং ও ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদের অধিকাংশেরই আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বাইরে: মূলত ভারত ও মিয়ানমারে। বিভিন্ন সময়ে সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল, জাতিগত সহিংসতা, রাজন্যবর্গের দ্বন্দ্ব কিংবা যুদ্ধবিগ্রহ থেকে আত্মরক্ষার্থে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এই উপজাতিগুলো দলে দলে বাংলার এই গহীন অরণ্যসংকুল পার্বত্য অঞ্চলে প্রবেশ করে। ঐতিহাসিকভাবে তারা এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূমিপুত্র নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেওয়া অভিবাসী মাত্র। তাদের এই জনস্রোতের ইতিহাস বড়জোর দুইশত থেকে তিনশত বছরের।
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই অঞ্চলকে মূল বাংলার আইন পৃথক রাখার নীতি গ্রহণ করে। ১৯০০ সালের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’ (Hill Tracts Regulation 1900) প্রবর্তনের মাধ্যমে তারা এই অভিবাসী উপজাতিদের সামাজিকভাবে বিন্যস্ত করে এবং তাদের ভূমির এক ধরনের বৈধতা প্রদান করে। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন এই জনগোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবেই ‘অভিবাসী’ বা ‘উপজাতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, কখনোই ‘আদিবাসী’ বা ‘ইনডিজেনাস’ (Indigenous) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই প্রশাসনিক সুরক্ষাকবচকে পুঁজি করে আজ তারা নিজেদের এই মাটির আদি বাসিন্দা হিসেবে দাবি করছে।
আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র (UNDRIP)-এর সুনির্দিষ্ট ধারাগুলোর অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিরা নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু সেখানে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ‘উপজাতি’ ও ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, তাত্ত্বিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের মূল বাঙালি জনগোষ্ঠীই এই ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা।
ভিনদেশি কিছু প্রভু এবং আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর প্রচ্ছন্ন মদদে ও আর্থিক সহায়তায় এই উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে ‘আদিবাসী’ শব্দের স্বীকৃতি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এই স্বীকৃতির দাবি কেবলই আত্মপরিচয়ের লড়াই নয়; এর পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের অধীনে স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের (Self-determination) দাবি আদায়ের সুদূরপ্রসারী কৌশল। কোনোভাবে আন্তর্জাতিক মহলে এই অঞ্চলের উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হলে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বা একটি স্বাধীন বা আধা-স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অপচেষ্টা চালাতে পারে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাতের শামিল। সীমান্তপারের উপজাতিরা যখনই বাংলাদেশ সীমান্তে পদার্পণ করে, তখনই এক অলিখিত জাদুমন্ত্রে তারা হয়ে যায় ‘আদিবাসী’, যা এক চরম ভূরাজনৈতিক পরিহাস।
অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সহজীকরণ:
পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির আওতায় উপজাতিদের যে বিশেষ প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অন্যতম বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শাসনব্যবস্থার মূল স্তরে রয়েছেন ‘হেডম্যান’ (মৌজা প্রধান) এবং ‘কার্বারী’ (গ্রাম প্রধান), যারা ঐতিহ্যগতভাবেই উপজাতি সম্প্রদায় থেকে মনোনীত হন। এছাড়াও আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দল তাদেরকে পুনর্বাসন করতে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে৷
ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির 'ঘ' খণ্ড অনুযায়ী গঠিত বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ দপ্তর। এর মূল কাজ হলো ভারতে আশ্রয় নেওয়া উপজাতীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন, নির্দিষ্টকরণ এবং যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। এসময় চুক্তির পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাতে শরণার্থী হিসেবে বাধ্য করা উপজাতিরা ভারতে আশ্রয় নেয়। এখন সেই উপজাতিদের পাশাপাশি অনেক ভারত ও মায়ানমারে চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা, কুকিভুক্ত উপজাতি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে জেএসএস এর সহযোগিতায়।
মিয়ানমার বা ভারত থেকে কোনো উপজাতি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর, তাদের পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুসংগঠিত সামাজিক ও আইনি জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনুপ্রবেশকারীরা গহীন পাহাড়ে তাদের সমগোত্রীয় বা স্বজাতীয় লোকদের মাঝে আশ্রয় নেয়। যেহেতু পাহাড়ের সিংহভাগ প্রশাসনিক ও সামাজিক পদগুলো উপজাতিদের নিয়ন্ত্রণে, তাই স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীরা অনায়াসেই এই ভিনদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র বা রিপোর্ট প্রদান করে। খাস জমি বা পাহাড়ের পরিত্যক্ত ভূমিকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বা দীর্ঘমেয়াদি ভোগ করার জমি হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির আওতায়।
এই স্থানীয় হেডম্যান রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে খুব সহজেই জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হয়। এভাবে গত কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত নীরবে ও নিভৃতে কয়েক লক্ষাধিক বিদেশি উপজাতি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে এ দেশের বৈধ নাগরিক বনে গেছে। এর ফলে পাহাড়ের জনসংখ্যা কাঠামো মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মূল ধারার বাঙালিদের কোণঠাসা করার এক পরিকল্পিত প্রয়াস চলছে।
‘সীমান্তের ওপারে তারা উপজাতি, আর এপারে এসেই হয়ে যায় আদিবাসী’, এই আপ্তবাক্যটি আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এই সংকট কেবল একটি অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সরাসরি বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত। এই ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জনসংখ্যাগত আগ্রাসন রুখতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিশেষ করে বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম অবিন্যস্ত ও অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া, বিজিবির বিওপি সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং আধুনিক ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির যেসব ধারার অপপ্রয়োগ করে সমগ্র ভূমি উপজাতিদের বলে হেডম্যান ও কার্বারীরা বিদেশি নাগরিকদের আবাসন ও নাগরিকত্বের সুযোগ করে দিচ্ছে, সেসব ধারার জরুরি সংশোধন প্রয়োজন। শাসনবিধির আলোকে যে সার্কেল চিফ, হেডম্যান, কার্বারী এবং বিভিন্ন প্রথাগত টিকে আছে তার ওপর রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি বাড়াতে হবে।
অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো বিদেশি নাগরিককে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই অবিলম্বে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে পুশব্যাক বা নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে উপজাতিদের প্রদত্ত জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রগুলোর একটি উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দ্বারা অডিট করা প্রয়োজন, যাতে শাসনবিধির ভূমির মালিকানার মাধ্যমে নাগরিকত্ব নেওয়া বিদেশিদের চিহ্নিত করে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এক অপরিহার্য রত্ন। বিদেশি প্রভুদের নীল নকশা এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকে আজই ইস্পাতকঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় অনাগত ভবিষ্যতে এই পাহাড়ের আগুন সমগ্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকেই গ্রাস করতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন